Tuesday, February 13, 2024

কর্জে হাসানা কী ও কেন?

 

ভূমিকাঃ

যিনি নামাজ পড়েন, জাকাত দেন, কর্জে হাসানা দেন এবং আল্লাহ পাকের কাছে কৃত অপরাধের জন্য ক্ষমা চান- তাহলে তাকে আল্লাজ কর্জে হাসানার সওয়াব বহুগণে দেবেন, সম্মানজনক পুরস্কার দিবেন এবং ক্ষমা করে জান্নাতে দাখিল করবেন, যার পাদদেশে নহর প্রবাহিত

করজঅর্থ ঋণ, ধার বা কর্জ; আর হাসানা অর্থ উত্তম। উভয়ে মিলে উত্তম ঋণ। আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি লাভের আশায়, সওয়াবের নিয়তে বিনা শর্তে কাউকে কোনো কিছু ঋণ দিলে তাকে কর্জে হাসানাবা উত্তম ঋণ বলে। ইসলামী আর্থসামাজিক ব্যবস্থায় কর্জে হাসানার গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। পবিত্র কোরআনুল কারিমের সূরা আল হাদিদের ১৮তম আয়াতে মহান রাববুল আলামিন এরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় দানশীল নর-নারী, যারা আল্লাহকে উত্তমরূপে ধার দেয়, তাদের দেয়া হবে বহুগুণ। তাদের জন্য রয়েছে সম্মানজনক পুরস্কার।তবে এজন্য শর্ত হচ্ছে, প্রদানকৃত বস্ত্তটি ফিরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে ঋণদাতা খাতককে তাগাদা না দেয়া। যেমনটি সূরা বাকারার ২৮০তম আয়াতে এরশাদ হয়েছে, ‘যদি খাতক অভাবগ্রস্ত হয়, তবে তার সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত সময় দেয়া উচিত। আর যদি ক্ষমা করে দাও, তবে তা খুবই উত্তম। যদি তোমরা উপলব্ধি কর।

কর্জে হাসানার মাধ্যমে আমাদের সমাজে চোখে পড়ার মতো তেমন কোনো বদল না দেখা গেলেও এর নেপথ্যে রয়েছে সামাজিক দৈন্য, পারিবারিক কলহসহ নানা অসংতি দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা; এর মাধ্যমে আমাদের পরস্পরের মাঝে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন, দারিদ্র্যবিমোচন ও ধনী-গরিবের বিভেদ উপেক্ষত হওয়ার ব্যাপারটি নিতান্তই সম্ভাব্য ও সহজসাধ্য। সুদখোরদের অভ্যাস হচ্ছে, খাতক নির্দিষ্ট সময়ে ঋণ পরিশোধে সক্ষম না হলে সুদের অঙ্ক আসলের সঙ্গে যোগ করে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদের কারবার চালানো। উপরন্তু সুদের হারও আগের চেয়ে বাড়িয়ে দেয়া; যেমনটি সূরা আলে ইমরানের ১৩০তম আয়াতে বর্ণিত হয়েছে- হে ঈমানদারগণ! তোমরা সুদ খেও না দ্বিগুণ চতুর্গুণ এবং আল্লাহকে ভয় কর। আশা করা যায়, তোমরা সফল হবে।কিন্তু কর্জে হাসানা পুরো এর বিপরীতার্থক। এতে একদিকে যেমন খাতকের উপকার হয়, তেমনি সুদ থেকেও বাঁচা যায়। এ কারণেই হাদিস শরিফেও কর্জে হাসানা প্রদানে বান্দাকে যথেষ্ট অনুপ্রাণিত করা হয়েছে।

কোরআন ও হাদিসের আলোকে কর্জে হাসানা

১. সদকা বিষয়ে পবিত্র কোরআনের আয়াতগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সদকা বা দান ইসলামে সৎকর্ম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর চেয়েও উত্তম হচ্ছে কর্জে হাসানা।

 

Tuesday, July 26, 2016

দাসী থেকে পণ্য

"নারী আগে ছিল দাসী আর এখন হয়েছে পণ্য।"

পারফিউমের এড দেখলেই দেখা যাই, সেখানে পরীর মত মেয়েগুলা ছেলেদের পিছন পিছন দৌড়ায়।
.
ক্রিকেট খেলা দেখলেই দেখা যাই, সেখানে মেয়েগুলা চার-ছক্কা-আউটের পরপরই নাচানাচি করে।
.
গাড়ির মেলা হচ্ছে সেখানে কারের দুই পাশে দুইটা মেয়েকে পরীর মত করে সাজিয়ে রাখা হয়।
.
কোন টুর্নামেন্টের আগে দলগুলাকে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে সেখানে ওই দলের ড্রেস সমেত একজন সুন্দরী থাকতে হবে।
.
নতুন কোন মোবাইল বা এপ্সের উদ্বোধন হচ্ছে সেখানে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সঙ্গে সুন্দরী এসে সেটা সবাইকে দেখিয়ে দিচ্ছে।
.
.
বুঝতে আর কত দেরি পাঞ্জেরী!!

Friday, February 5, 2016

শিক্ষণীয় ঘটনা

রাস্তা দিয়ে বোরকা পরা এক মেয়ে হেঁটে
যাচ্ছে। চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দেয়া
ছেলেদের মধ্যে একজন বাজি ধরে বললো,
আমি যদি মেয়েটির ফোন নাম্বার এনে দিতে পারি
তাহলে আমাকে কী দিবে...? অন্যরা-বলল পুরা
একটা গ্রিল খাওয়াব!
আচ্ছা ঠিক আছে বলে ছেলেটি, মেয়েটির পিছু
নিল। ফাকা রাস্তায় সুযোগ বুঝে মেয়েটিকে সরাসরি
বললো, আমি কী আপনার ফোন নাম্বারটা পেতে
পারি...? মেয়েটি কিছুটা ভয় পেয়ে গেল!! একটু চুপ
থেকে উওর দিলোঃ- ১৮-১২, ২৪-৩০
ছেলেটি বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করলো, এটা আবার
কোন অপারেটরের নাম্বার...?
মেয়েটি বললঃ- এই অপারেটরের নাম ‘‘ইসলাম’’।
কোরআনের ১৮তম পারার, ১২নং পৃষ্ঠা, ২৪নাম্বার
সূরার, ৩০নাম্বার আয়াত, বাড়ি গিয়ে ডায়াল করবেন!!!
ছেলেটি ব্যর্থতার চিহ্ন মুখে নিয়ে বন্ধুদের
কাছে ফিরলে সবাই তাকে নিয়ে রসিকতা
শুরু করলো। সে বন্ধুদের সাথে রাগ করে বাড়ি
চলে গেল এবং কোরআনের নির্দিষ্ট স্থানটি বের
করে দেখলো তাতে লেখা রয়েছেঃ "হে
নবী!! মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি
নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাযত করে
এতেই তাদের জন্য পবিত্রতা রয়েছে নিশ্চয়ই তারা
যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।” [সূরা আন-নূর,
আয়াত নং-৩০]
অতপর ছেলেটি কুদৃষ্টির বদলে মেয়েটিকে
সম্মান করতে শুরু করলো। বোঝার ব্যাপার হল,
সকল সমস্যার সমাধান দিতে পারে মহান গ্রন্থ ‘‘আল-
কুরআন’’ যদি কেউ তার যথাযথ ব্যাবহার করতে
জানে!

Sunday, October 4, 2015

অশ্লীলতা ও বাস্তবতা

একজন ছেলে মোবাইলে সারা দিন-
রাত
পর্ণ ফিল্ম দেখে,সেই ছেলেটা
অশ্লীল।
একজন প্রেমিক-প্রেমিকা পার্কে
অথবা কোন আবাসিক হোটেলে
শারিরিক মেলা-মেশা করলে তাদের
চরিত্রহীন প্রেমিক-প্রেমিকা বলে
হয়।
কোন মেয়ে পুকুরে গোসল করার সময়
সেটা ভিডিও করে বন্ধুদের
মোবাইলে
ব্লু-টুথের মাধ্যমে শেয়ার করা
ভন্ডামি,লুচ্চাইমি বলা হয়।
রাস্তায় সুন্দরি কোন মেয়ে দেখে
তার
সাথে অশ্লীল ব্যাবহার করাকে
ইভটেজিং বলা হয়।
কোন নারী একজন পুরুষের কাছে
ধর্ষন
হওয়ার পর তাকে ধর্ষিতা বলা হয়।
ফেসবুকের ইনবক্সে যেকোনো
মেয়ের
সাথে লুতুপুতু করাকে লুলামি বলা হয়।
!
# আসুন_মূল_কথা_বলা_যাক ...!
!
শিক্ষার উপর ৭.৫%ভ্যাট আরোপ করা
হয়েছিল।
সারাদেশব্যপী শিক্ষার্থিদের
কঠোর
আন্দোলন স্মৃষ্টি হয়,
যার ফলে সরকার শিক্ষার
উপর,শিক্ষার্থিদের উপর থেকে
ভ্যাট
তুলে নিতে রাজী হয়েছিলো।
!
কিছু দিন আগে এক সংবাদ বার্তায়
দেখতে পেয়েছিলাম।
আব্দুল মাল এক ব্রিফিং এ
বলেছিলো,
আজ থেকে সারাদেশে,প্রতিট
া শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানে কনডম বিতরন করা হবে।
ছিঃ!! ভাবতেই অবাক লাগছে একজন
মন্ত্রী হয়েও কি ভাবে তিনি নিজ
মুখে
এমন একটা নষ্ট ব্রিফিং দিতে
পারলো??
!
হয়তো আবার শিক্ষার্থিরা
আরেকটা
আন্দোলন করবে,যেমনটা করা
হয়েছিলো ৭.৫%ভ্যাট প্রত্যাহার
করার জন্য।
কিন্তু এই আন্দোলন হবে অন্যসব
আন্দোলন
থেকে একটু আলাদা।
সবার মুখে মুখে একটা কথা
প্রতিদ্ধনি হবে।
!
# নো_সেক্স_অন_এডুকেশন ।
!
আমরা শিক্ষার্থিরা দেশের কাছে
দেশের সরকার এর কাছে শুধু একটাই
চাওয়া।
সুষ্টু,সুন্দর,ভাবে শিক্ষা গ্রহন করতে
চাই।
আচ্ছা এখন কোথায় গেলো আমাদের
সুশিল সমাজ এর মানুষ গুলো??
!
তাদের সন্তানরা কি
স্কুল,কলেজ,ভার্সিটিতে পড়াশোনা
করেনা?
কেনো তারা কিছু না বলে চুপ করে
আছে??
আসলে যে দেশের সুশিল সমাজ আজ
ক্ষমতার কাছে জিম্মি হয়ে
থাকে,সেই দেশে
!
এর থেকে ভালো আর কি হতে
পারে??
দেশের সুশিল সমাজের মানুষ গুলো
যদি
ক্ষমতার কাছে জিম্মি হয়ে চুপ করে
থাকে,
তাহলে দিন দিন সারা দেশেই বেড়ে
চলবে অশ্লীল ব্যাপার গুলো।
!
# সবার_কাছে_প্রশ্ন ।
!
আজ আপনি-আমি,আপনার-আমার,
পরিবার কি সেই সব অশ্লীলতার
থেকে মুক্ত??
!
# নিশ্চই_না ।
!
আসুন না,সবাই মিলে আমাদের
সোনার
বাঙলা নিজেদের মতো করে
সাজাই।
কোন অশ্লীলতা থাকবে না,থাকবে
শুধু মানবতা।

Thursday, October 1, 2015

সৌদি যুবরাজ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

"প্রিন্স মুহাম্মাদ বিন সালমান "
সময়ের আলোচিত একটি নাম ।
তিনি সৌদি আরবের যুবরাজ ।
ছোট বেলায় তার পিতা
[ যিনি বর্তমান সৌদি বাদশাহ ]
অনেক আবেগ আর ভালবাসা নিয়ে
পুত্রের নাম নবীজী সা. এর নামের
সাথে মিল রেখে মুহাম্মাদ
রেখেছেন ।
বাদশাহ সালমান নিজেও একজন
হাফেজে কোরআন ।নিজের
সন্তানকেও দ্বীনী পড়া লেখা
করিয়েছেন ।
.
প্রিন্স মুহাম্মাদের পাশ্চত্য কোন
সার্টিফিকেট নেই, তিনি কাবা
শরীফের ইমাম সাহেবদের নিকট পড়া
লেখা করেছেন ।
.
ছোট বেলা থেকেই তিনি দেশ
জাতী ও বিশ্ব মুসলীম উম্মাহ নিয়ে
চিন্তা ভাবনা করতেন ।
তিনিই সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা
মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে আছেন ।
.
তিনি বাদশাহ সালমানের প্রধান
উপদেষ্টা হিসেবেও নিয়োজিত
আছেন ।
তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ের
দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই সৌদি
আরবের ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা
পূণরুদ্ধারে অবিরাম প্রচেষ্টা
চালিয়ে যাচ্ছেন ।
.
এরই ধারাবাহিকতায় ইখওয়ানুল
মুসলিমীন, ফিলিস্তিন মুক্তি সংগঠন
হামাস, তুরস্কের আশাজাগানিয়া
নেতা ও মুসলীম উম্মাহর গর্ব
প্রেসিডেন্ট এরদোগান সহ বিশ্ব
মুসলিম নেতৃবৃন্দের সাথে সম্পর্ক
জোরদার করা হয়েছে ।
এবং হামাস প্রধান খালেদ মাশআল
সহ সংগ্রামী ব্যক্তিদের সাথে
গুরুত্বপুর্ণ বৈঠক করা হয় ।
আর এ সকল মতবিনিময় ও বৈঠকে
নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রিন্স মুহাম্মাদ ।
তিনি আরবীয় খান্দানে এক ভীন্ন
চিন্তার মানব হিসাবে খ্যাত ।
তার সর্বদা একটাই চিন্তা, তা হল
বিশ্ব মুসলীমের হারানো গৌরব ফের
আদায় করা ।
.
বর্তমান বাদশাহর আমলে সৌদী
নীতিতে আমূল পরিবর্তন আনা
হয়েছে । আর এ সব কিছুই সাধিত
হয়েছে যুবরাজ মুহাম্মাদের পরামর্শে

-কারন, তার চেতনা একেবারেই স্বচ্ছ

হারাম শরীফের ইমাম সাহেবগন
ছোটবেলা থেকে তাকে
আপোষহীনতার শিক্ষাই দিয়েছেন ।
তিনিই সৌদির শত্রু মিত্র নির্ধারন
করে দিয়েছেন । বর্তমান সৌদি
জনগন আশার প্রহর গুনছেন,
ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যত নেতৃত্ব
হিসেবে সৌদীর বুকে আশার প্রদীপ
জ্বালাবেন যুবরাজ 'মু হা ম্মা দ '।
.
তার পরামর্শেই ইরানী হিংসুক
শিয়াদের হাত থেকে ইয়ামানকে
বাঁচানোর জন্য বাধ্য হয়ে ইয়ামানে
বিমান হামলা করে সৌদী ।
.
সৌদীতে এরকম সাহসী ও সংগ্রামী
ব্যাক্তির অস্তিত্বের জন্যই
শীয়াগোষ্ঠী ও ইহুদীরা সবচে
আতঙ্কে আছে প্রিন্স মুহাম্মাদকে
নিয়ে ।
তাই তাকে ফাসানোর জন্য ষড়যন্ত্র
করে মিনা ট্রাজেডী ঘটানো হয় ।
এবং যুবরাজের ইমেজ ধ্বংসের
অপচেষ্টা করা হয় ।
.
আজ সৌদী মিডিয়া এঘটনার তীব্র
প্রতিবাদ জানিয়েছে । এবং
ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রকারী
ইরানীদের হুশিয়ার জানানো হয়েছে

এবং আরো জানা গেছে, সৌদি
সরকার ঘটনার তদন্ত করতে বজ্রকঠিন
শপথ নিয়েছেন ।
এবং শত শত সিসি ক্যামেরার
চূলচেরা বিশ্লেষণ চলছে ।
অপরাধীদের কড়া শিক্ষা দেয়া হবে

.
শীর্ষ নিউজ জানিয়েছে, হাজীদের
মৃত্যুর ঘটনাটি একটি ষড়যন্ত্র ।
মুসলীম উম্মাহর হৃদস্পন্দন মক্কাকে
কলুষিত করতেই এই অপচেষ্টা করা
হয়েছে ।
এবং ভবিষ্যত সৌদীর শক্তীশালী
নেতৃত্বের অবসান ঘটানোর জন্যই
একাজ করেছে শত্রুরা ।
-জানা গেছে, সৌদী আরব শুধু মাত্র
হাজীদের সম্মানে হজের সময় যে
নিরাপত্তা বেষ্টনী ও ব্যবস্হাপনা
করে থাকে,
তা দিয়ে ৫০ টি ফুটবল বিশ্বকাপ
একবারেই আয়োজন করা যাবে
অনায়াসেই । এত নিরাপত্তার পর ও
এই অনাকাঙ্খি ত ঘটনা রহস্যময়
ইতিহাস হয়েই থাকবে । বিশ্ব জনমত
সে কথাই বলে ।
.
-এরপর ও সৌদী আরবকে কলঙ্কিত
করতে ও মুসলীম বিশ্বের দৃষ্টি
অন্যদিকে ঘুরাতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র
করা হচ্ছে । আর এতে নাটের গুরু
হিসেবে কাজ করছে ইহুদী,
খৃষ্টানদের সাথে হাত মিলানো
শীয়াগোষ্ঠী ।
.
-আমরা আশাবাদী, সৌদীর আগামী
তরুন প্রজন্ম ও নব্য তুর্কীরা ইসলাম
বিদ্বেষীদের সকল ষড়যন্ত্রকে
ধুলিৎসাত করে দিবে ইনশাআল্লাহ ।
.
-বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ আপডেট ও
গোয়েন্দা রিপোর্টে আশা করা যায়,
নতুন আরেকটি ইসলামী বিপ্লবের
অপেক্ষায় দুনিয়া ।
আর সেটা হয়তো আসবে আরবের ভূমি
থেকেই । যার সহযোগী থাকবে নব্য
তরুন তুর্কীরা ।
যার সমর্থনে থাকবে হাজার মাইল
দূরে, বিশ্বের প্রান্তে প্রান্তে
ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আমাদের মত
নবী প্রেমিক ঈমানদ্বীপ্ত তৌহিদী
ছাত্র জনতা ।
.আর সেই আন্দোলনে ইসলামী
দুনিয়ার নেতৃত্ব চলে যেতে পারে
আজকের যুবরাজ মুহাম্মাদ এর হাতে ।
তার চেহারার গভীর ছাপ সে কথারই
প্রতিনিধিত্ব করে ।
তার চেহারার মাঝে লুকিয়ে আছে
বিজয়ের অভিপ্রায় ।
.
-বিজয় মুসলমানদের পদচুম্বন করবে ।
যুবরাজ মুহাম্মাদের নেতৃত্বেই আসতে
পারে মধ্যপ্রাচ্যে অন্যধরনের এক
পরিবর্তন । যা হয়তো পাশ্চত্য
দুনিয়াকে নাড়িয়ে দিবে ।
বিভিন্ন ঐতিহাসিক পরিসংখান সে
ইঙ্গিতই দিচ্ছে আমাদের ।
সেই আশার আলোর সোনালী
প্রভাতের অপেক্ষায়....

Friday, September 18, 2015

পরিচিতি

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর পরিচিতি
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

ভূমিকাঃ
আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের সঠিক পথে পরিচালনার জন্য যুগে যুগে সত্য দ্বীনসহ অগণিত নবী-রাসূল সা. প্রেরণ করেছেন। নবী-রাসূলগণ সা. হক-বাতিল, ভাল-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, সফলতা-ব্যর্থতার মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিধানপূর্বক শান্তি, কল্যাণ ও মুক্তির সঠিক পন্থা নির্ধারণ করে গেছেন। তাঁরা ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের প্রতিরোধের মাধ্যমে মানবজীবনকে সুন্দর , সফল, সার্থক ও শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদায় সমাসীন করেছেন। আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ সা.-এর পর এ দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে উম্মতে মুহাম্মদী অর্থাৎ গোটা মুসলিম জাতির উপর। এ দায়িত্ব মুসলমানরা যে যুগে যতটুকু পালন করেছেন সে যুগে ততটুকু শান্তি, কল্যাণ ও মুক্তি পেয়েছেন।

আল্লাহ প্রদত্ত ইসলামের সুমহান আদর্শে দেশের শতকরা প্রায় ৯০ জন লোক বিশ্বাসী।ইসলামের প্রতি এদেশের মানুষের আস্থা, বিশ্বাস ও দরদ অত্যন্ত গভীর। জনগণ চায় ইসলামী আদর্শ অনুযায়ী দেশ পরিচালিত হোক। কিন্তু শাসকগোষ্ঠী, কায়েমী স্বার্থবাদী মহল, সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের এজেন্টদের বহুমুখী ষড়যন্ত্র ইসলামী আদর্শ কায়েমের পথে অন্তরায় হয়ে রয়েছে। একদিকে জনগণকে বার বার ধোকা দিয়ে ক্ষমতায় থাকার জন্য শাসকগোষ্ঠী ইসলামের নাম ব্যবহার করে আসছে। অন্যদিকে ইসলামের উত্থানকে ঠেকানোর জন্য গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। ফলে দেশে বিরাজ করছে অগণিত সমস্যা। এ সমস্যার কথা অনেকেই স্বীকার করেন এবং তা সমাধানে বার বার আন্দোলনও হয়েছে, কিন্তু সমস্যা রয়েই গেছে। সমস্যার স্থায়ী সমাধানেরর জন্য সর্বাগ্রে মূল কারণ চিহ্নি করা প্রয়োজন। আমরা মনে করি, যতক্ষণ পর্যন্ত নৈতিক আদর্শ বিবর্জিত সমাজ কাঠামোর পরিবর্তন ও দুর্নীতিবাজ নেতৃত্বের অবসান ঘটিয়ে ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠা এবং সমাজের সর্বস্তরে যোগ্য, খোদাভীরু লোকের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত দেশের কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এ সত্য উপলব্ধির প্রেক্ষিতে দেশের সর্বজন শ্র্দ্ধেয় ওলামায়ে কিরাম, পীর-মাশায়েখ ও দ্বীনদার বুদ্ধিজীবীগণের নেতৃত্বে ১৯৮৭ সালের ১৩ই মার্চ জালেম শাসকগোষ্ঠী ও শোষণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে দেশকে একটি পূর্ণাঙ্গ কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে ‘ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন ’ প্রতিষ্ঠিত হয়। যা গত ২০ নভেম্বর’০৮ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’ নামে নিবন্ধন লাভ করে। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’ এর নিবন্ধন নং-০৩৪।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রচলিত কোনো রাজনৈতিক দল নয়। দলাদলী ইসলাম সমর্থন করে না, কারণ দলীয় রাজনীতি সংকীর্ণতা, কোন্দল ও হানাহানি সৃষ্টির নামান্তর। দলীয় রাজনীতি মুসলিম উম্মাহর সংহতি ও ঐক্যকে বিনষ্ট করে উম্মাহকে শতধাবিভক্ত করে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বস্তুতঃ ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দল-মত নির্বিশেষে একটি সর্বজনীন ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন। স্বাধীনতা আন্দোলন কিংবা ভাষা আন্দোলন যেমন কোনো দলীয় আন্দোলন ছিল না, যা ছিল দু’টি ইস্যুকে সামনে রেখে দলমত নির্বিশেষে একটি সর্বজনীন আন্দোলন। অনুরূপ নিছক নেতা বা সরকার পরিবর্তন নয়, দেশে প্রচলিত মানবরচিত সকল অনৈসলামী নীতি এবং জাহেলী সমাজের সার্বিক পরিবর্তন সাধন করে ইসলামকে রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি বিজয়ী আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই ইসলামী আন্দোলনের চূড়ান্ত লক্ষ্য। এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, ৫২’র ভাষা আন্দোলন বা ’৭১ এর স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে ইসলামী আন্দোলনের কোনোরূপ তুলনা করা হয়নি। কারণ ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সাথে অন্য কোনো আন্দোলনের তুলনা করা আদৌ যুক্তিসঙ্গত নয়। এটা শুধুমাত্র আন্দোলনের ধরণ বুঝাবার জন্য উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের মূল ইস্যু হচ্ছে ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠা।

অতএব, যতদিন বাংলার জমিনে পূর্ণাঙ্গ ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠা না হবে ততদিন পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।

উদ্দেশ্যঃ দুনিয়ায় শান্তি ও আখিরাতের মুক্তি লাভের জন্য আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জন।

লক্ষ্যঃ প্রচলিত জাহেলী সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন সাধন করে ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমে খেলাফতে রাশেদার নমুনায় বাংলাদেশকে একটি কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করা।

কর্মসূচিঃ
১. দাওয়াত; একটি সুখী সমৃদ্ধ কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য জনসাধারণকে সচেতন করা এবং সর্বস্তরে ‘আমর বিল মা’রূফ ও নাহি আনিল মুনকার’ তথা ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা চালাতে সকলকে উদ্বুদ্ধ করা।
২. সংগঠন; আন্দোলনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যে প্রতি আগ্রহী সংগঠন, প্রতিষ্ঠান, দল ও ব্যক্তিদেরকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কাফেলায় সংঘবদ্ধ করা।
৩. জ্ঞানার্জন ও প্রশিক্ষণ; নৈতিকতাসমৃদ্ধ আলোকিত মানুষ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ধর্মীয় জ্ঞান প্রসারের পাশাপাশি প্রচলিত জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, কর্মমূখি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনগণকে সুশিক্ষিত, দক্ষ ও আদর্শিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। সংঘবদ্ধ লোকদের আদর্শিক আধ্যাত্মিক রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংগঠনিক দিক থেকে ইসলামী সমাজ গঠনের যোগ্য সৈনিক হিসেবে গড়ে তোলা।
৪. ঐক্য; ইসলামের সুমহান আদর্শের ভিত্তিতে গণমানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক ও সংহতি সৃষ্টির চেষ্টা চালানো।
৫. শিক্ষা সংস্কার; জাতীয়ভাবে সর্বজনীন কল্যাণকে সামনে রেখে প্রচলিত মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়ন এবং স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষাকে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয়ে কর্মমূখি শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের চেষ্টা চালানো।
৬. খেদমতে খালক; খেদমতে খালক বা সমাজের অবহেলিত, বঞ্চিত মানুষের সেবা, জালিমের প্রতিরোধ এবং খেটে খাওয়া মজলুম মানুষের অধিকার আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা।
৭. সমাজ সংস্কার ও অর্থনৈতিক মুক্তি; সর্বস্তরে সুদ, ঘুষ দুর্নীতি, সন্ত্রাস, খুন, ধর্ষণ, চুরি-ডাকাতি ইত্যাদি সামাজিক ব্যাধি উচ্ছেদ করে গণবিপ্লবের মাধ্যমে একটি আদর্শ সমাজ গঠন করা। অপরদিকে দারিদ্রের অভিশাপ থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে সম্পদের সর্বোত্ত ও সঠিক ব্যবহার, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশীয় শিল্পের বিকাশ এবং কৃষি বিপ্লবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদানের পাশাপাশি সুদভিত্তিক সমাজব্যবস্থা উৎখাত করে ইসলামের যাকাত ও হালাল ব্যবসার নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা।
৮. অপশক্তি-অপসংস্কৃতি প্রতিরোধ; জাহেলী অপশক্তি ও অপসংস্কৃতির সয়লাব রোধ করে সুস্থ্য ধারার সৃজনশীল ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানোর সক্রিয় প্রয়াস চালানো।
৯. অমুসলিম বা সংখ্যালঘুদের অধিকার; অমুসলিম বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জান-মাল, ইজ্জত-আবরুর নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতাসহ সকল নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তা বিধান।
১০. গণআন্দোলন; সমাজ ও রাষ্ট্রের অকল্যাণকামী ভোগবাদী ও খোদাদ্রোহী নেতৃত্বের অবসান ঘটিয়ে খোদাভীরু দেশপ্রেমিক যোগ্য লোকের নেতৃত্বে ইসলামী আদর্শভিত্তিক একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য জনসাধারণকে অনুপ্রাণিত করে গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা।

সাংগঠনিক কাঠামোঃ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাশে-এর কেন্দ্রীয় কাঠামোতে রয়েছে-
ক. একজন আমীর
খ. মজলিসে সাদারাত (প্রেসিডিয়াম)
গ. মজলিসে শুরা (পরামর্শ পরিষদ)
ঘ. মজলিসে আমেলা (কার্যনির্বাহী পরিষদ)

সাংগঠনিক স্তরঃ
আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত লোকদের সাংগঠনিক মানে উন্নীত করার জন্য তিনটি স্তর রয়েছে: (ক) সদস্য (খ) কর্মী (গ) মুবাল্লিগ।

ক. সদস্য:
যিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সাতে একমত হয়ে সদস্য ফরম পূরণ এবং সাপ্তাহিক বৈঠকসহ বিভিন্ন সভা-সমাবেশে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করবেন তিনি আন্দোলনের একজন সদস্য বলে গণ্য হবেন।

খ. কর্মী:
যে সদস্য নিম্মলিখিত ৫টি কাজ নিয়মিত আঞ্জাম দিবেন তিনি আন্দোলনের কর্মী বলে গণ্য হবেন।
১. নিয়িমিত সাপ্তাহিক, মাসিক বৈঠক ও সভা-সমাবেশে যোগদান।
২. নির্ধারিত হারে নিয়মিত মাসিক এনায়ত (চাঁদা) প্রদান।
৩. নিয়মিত কুরআন-হাদীস, বুজুর্গানেদীনের কিতাব, ইসলামী সাহিত্য ও সাংগঠনিক সিলেবাসভুক্ত বই অধ্যয়ন করা।
৪. নির্ধারিত ফরমে ব্যক্তিগত রিপোর্ট সংরক্ষণ।
৫. তিন ছবকের বাস্তবায়ন-
(ক. দ্বীন কায়েমের নিয়তে প্রতিদিন দু’রাকাত নামাজ আদায় করা।
খ. সাধ্যানুযায়ী আল্লাহর রাস্তায় দান করা।
গ. মাসে কমপক্ষে ৪ জনকে দাওয়াতের আন্দোলনের সদস্য করা।)

গ. মুবাল্লিগ:
উপরোক্ত পাঁচটি কাজ অব্যাহত রেখে যে কর্মী নিুলিখিত পাঁচটি গুণ অর্জন করবেন তিনি আন্দোলনের সর্বোচ্চ স্তরের অধিকারী অর্থাৎ মুবাল্লিগ হবেন।
১. ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার কাজকে জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বানানো অর্থাৎ সকল কাজের উপর আন্দোলনের কাজকে প্রাধান্য দান।
২. ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর উন্নতির-জন্য সার্বক্ষণিক চিন্তা-ফিকির করবেন।
৩. উত্তরোত্তর ইলম-আমল, জান-মাল ও সময়ের কুরবানী বৃদ্ধির চেষ্টা চালাবেন।
৪. সকল প্রকার প্রলোভন ও ভয়কে পরিহার করে আন্দোলেনর জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকবেন।
৫. দশটি মৌলিক দোষ: যথা- কাম, ক্রোধ, লোভ, হিংসা, মিথ্যা, কীনা, গীবত, কৃপনতা, রিয়া ও বড়াই বর্জন করা এবং দশটি মৌলিক গুণাবলী: যথা- ছবর, শোকর, ভক্তি একীন, ইলম, তওবা, খুলুছ, ভয়, তাওয়াক্কুল ও মহব্বত অর্জন করা।

বাইতুল মালঃ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নীতিমালা অনুযায়ী সংগঠনের সর্বস্তরে বাইতুল মাল বা অর্থ তহবিল থাকবে। দায়িত্বশীল, সদস্য, কর্মী, মুবাল্লিগ, অধঃস্তন শাখাসমূহ, শুভাকাক্সক্ষী ও সহযোগি সংগঠনের নিয়মিত মাসিক এককালিন এয়ানত-ই (চাঁদা) এ আন্দোলনের আয়ের উৎস। প্রকাশ থাকে যে, নিরীক্ষা কমিটির মাধ্যমে আয়-ব্যয়ের সার্বিক হিসাব নিরীক্ষা করা হয়।

বৈশিষ্ট্যসমূহঃ
১. ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রচলিত কোনো দলীয় রাজনীতি নয় বরং এটা দ্বীন কায়েমের এক সর্বজনীন আন্দোলন যা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহ ও রাসূল সা. নির্দেশিত এবং হযরত সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত পথে পরিচালিত। ২. হক্কানী ওলামা-পীর-মাশায়েখ ও দ্বীনদার বুদ্ধিজীবীদের সমন্বিত নেতৃত্ব।
৩. পরামর্শের ভিত্তিতে (শুরা) সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
৪. দেশে বিরাজমান মতাদর্শগত (অর্থাৎ এদেশের মানুষ পুঁজিবাদী, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ চায় নাকি ইসলামী আদর্শভিত্তিক কল্যাণরাষ্ট্র চায়) সংকট নিরসনকল্পে গণভোট (রেফারেন্ডাম) ও মুসলিম জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার প্রবক্তা।
৫. রূহানিয়াত ও জিহাদের সমন্বিত প্রয়াস।
৬. অপশক্তি, অপসংস্কৃতি ও সকল প্রকার জুলুম-নির্যাতন প্রতিরোধে সোচ্চার কণ্ঠ।
৭. আদর্শ মানুষ গড়ার এক অনন্য সংগঠন।
৮. প্রচলিত ধারার রাজনীতি নয় বরং আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকারের দায়িত্ব পালনে একটি ঐক্যপ্রয়াসী শক্তি।
৯. ইসলামবিরোধী নারী নেতৃত্বসহ সকর বাতিলের বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থান।
১০. এই আন্দোলনের বিপ্লবী শ্লোগান-
“শুধু নেতা নয়, নীতির পরিবর্তন চাই”

অতএব, দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে উদাত্ত আহ্বান, আসুন দেশের স্থায়ী শান্তি ও মানবতার সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এ যোগদানের মাধ্যমে ঈমানী দায়িত্ব পালন করি এবং বাংলাদেশকে একটি পূর্ণাঙ্গ কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করার সর্বাত্মক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে উভয় জাহানের কামিয়াবী অর্জন করি।

কর্মী /মুবাল্লিগদের দৈনন্দিন আমলঃ
১. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়েতে আদায় ও তাহাজ্জুদের অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করা।
২. প্রতিদিন ফজর ও মাগরিব নামাজের পর কিছু সময় জিকির, অযিফা, তেলাওয়াতে কুরআনসহ নফল ইবাদতের চেষ্টা করা।
৩. নিয়মিত কুরআন-হাদীস, মাসয়ালা-মাসায়েল, আল্লাহর অলীদের কিতাব, ইসলামী আন্দোলনের বই পুস্তক ও পত্র-পত্রিকা পড়ার অভ্যাস করা।
৪. সাধ্য মোতাবেক চলতে-ফিরতে, ওঠতে-বসতে সর্বদা জিকরুল্লাহ ও দরুদ শরীফ জারী রাখা।
৫. দৈনিক সাধ্যানুযায়ী ইসলামী আন্দোলনের দাওয়াত দেয়া।
৬. দ্বীন কায়েমের নিয়তে প্রতিদিন দু’রাকাত নামায (সালাতুল হাজত) আদায় করা।
৭. আল্লাহর পথে পরিমানে কম হলেও নিয়মিত দান করা ও জান-মাল কুরবানীর জন্য আল্লাহর দরবারে তাওফীক কামনা করা।
৮. প্রতিদিনের পারস্পরিক লেনদেন পরিস্কার রাখা এবং আচার-আচরণ সুন্দর হওয়ার দিকে লক্ষ্য রাখা।
৯. প্রত্যহ কারো কোনো উপকার করা।
১০. হালাল উপার্জন ও হারাম থেকে বেঁচে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করা।
১১. অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে আদায়ের চেষ্টা করা।
১২. রাতে ঘুমানোর পূর্বে সমস্ত দিনের কাজকর্মের এহতেসাব (আত্মসমালোচনা করে ভুল-ত্রুটির জন্য আল্লাহর দরবারে এস্তেগফার ও ভাল কাজের জন্য শুকরিয়া আদায় করা।
১৩. ঘুমানোর সময় অজু রেখে সুরায়ে ফাতেহা ও সুরায়ে এখলাসসহ দোয়া-দরুদ পড়ার অভ্যাস করা।

আল্লাহ্ আমাদের সকলকে দ্বীন কায়েমের পথে শহীদ অথবা গাজী হিসেবে কবুল করুন, আমীন।